TVS Apache RTR 4V vs Bajaj Pulsar NS160 ইউজার রিভিউ - সুজেফ উদ্দিন
This page was last updated on 18-Jul-2024 02:52am , By Ashik Mahmud Bangla
বাংলাদেশে ১৬০সিসি সেগমেন্টের ২টা বাইক নিয়ে আজ কিছু কথা বলবো বা রিভিউ দিবার চেষ্টা করবো । যদিও আমার চেয়ে আপনারাই বেশি ভাল বলতে পারবেন । আমি শুধু আমার নিজের অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আজ আমি আপনাদের TVS Apache RTR 4V vs Bajaj Pulsar NS160 দুটি বাইক নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করব।
TVS Apache RTR 4V vs Bajaj Pulsar NS160 ইউজার রিভিউ - সুজেফ উদ্দিন
এই দুটি বাইকের রিভিউ এর কারণ হলো, ইদানিং এই দুই বাইকের সাথে আমি সম্পৃক্ত । Bajaj Pulsar NS160 চালাচ্ছি ২০ হাজার কিলোমিটারের এর উপর এবং TVS Apache RTR 4V রাইড কিছু দিন। তার আগে বলে দেই একটি বাইক থেকে আমরা কি কি আশা করি?
- লুকস
- ইঞ্জিন পারফর্মেন্স
- ব্রেকিং পারফর্মেন্স
- ব্যালেন্স
- লং/শর্ট ডিষ্টেন্স রানিং
- মাইলেজ
- বিল্ড কোয়ালিটি
- ইঞ্জিন সাউন্ড
- স্ট্যাবিলিটি
- মেইন্টেইনেন্স খরচ
TVS Apache RTR 4V vs Bajaj Pulsar NS160 নিয়ে আলোচনাঃ
লুকসঃ নিঃসন্দেহে বাজাজ পালসার এনএস এগিয়ে থাকবে । কারণ এর গ্রাফিক্স আর স্টিকারের ডিজাইন । অনেকেই গ্রাফিক্স আর স্টিকার ডিজাইন করে থাকেন। তবে আমার মতে পালসার এনএস কেনার পর কোনো মডিফিকেশান (স্টিকার) করার প্রয়োজন নেই । লুকস তো আছেই সেই সাথে আছে এগ্রেসিভ ভঙ্গী । ওইদিক থেকে আরটিআর ৪ভি একটু বেশিই সাদামাটা ভদ্র দেখতে কিন্তু একবারে ফেলে দিবার মত নয়। তবে লুকস এর ক্ষেত্রে বাজাজ এগিয়ে থাকবে আমার মতে ।
ইঞ্জিন পারফর্মেন্সঃ আমি এত হিসেব নিকেশ করে NM বা BHP কতো এইসব বলবো না । আমি যেইটা বলবো, ইঞ্জিন পারফর্মেন্স এর দিকে দিয়ে আরটিআর ৪ভি অনেকটাই এগিয়ে থাকবে । ফ্যাক্টরি থেকে বা দোকান থেকে নামিয়ে বাইক চালিয়ে বুঝার উপায়ই নেই যে এই বাইক ০কিলোমিটার রানিং। এতোটাই রিফাইন্ড ইঞ্জিন। আপনি বুঝতেই পারবেন না যে এই বাইকে ধীরে ধীরে স্পীড উঠে যাচ্ছে ।
সেই দিক থেকে পালসার এনএস অনেক পিছিয়ে রয়েছে । এনএস এর মধ্যে একটা গুয়ার্তুমি ভাব আছে, যেমন যখন স্পীড উঠবে মানে স্পীড উঠার সময় আপনি বুঝতে পারবেন যে স্পীড উঠতেছে (ইঞ্জিন সাউন্ড)। অনেক হার্স সাউন্ডে স্পীডে উঠে আর প্রথম দিকে শক্ত একটা ভাব থাকে ইঞ্জিনে তূলনামুলক 4V থেকে অনেক বেশি । আমি ব্যক্তিগত ভাবে ১১৫ এর পরে ফিল করসি NS এ দম পায় না ।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে 4v উঠে যেতেই থাকে ১২৫ পর্যন্ত খুব সহজে । এই পর্যন্ত ১২৬ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত স্পীড পেয়েছি পালসার এনএস এ আর ১৬০ ৪ভি তে পাইসি ১৩৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। লিন হয়ে থাকলে ৪ভি তে ১৩০কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা খুব সহজেই উঠানো সম্ভব ।
ব্রেকিং পারফর্মেন্সঃ অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে পালসার এনএস এর চাকা চিকন হবার জন্য ব্রেক কম ধরে । কিন্তু আমি এটা বলতে পারি যে ব্রেকিংটি সম্পূর্ন আপনার উপর । এটা পার্সন টু পার্সন ডিপেন্ড করে কে কত কম সময়ে ব্রেক করে গাড়ি থামাতে পারে । ব্যক্তিগত ভাবে আমি সিঙ্গেল ডিস্কের ক্ষেত্রে NS কে এগিয়ে রাখবো । কারণ NS এর ওজনের জন্য ব্রেক খুব তাড়াতাড়ি ধরে, আমার কাছে যা মনে হলো আর ৪ভি এর ব্রেক খারাপ মনে হয়েসে সিঙ্গেল ডিস্কে । কিন্তু অনেকের ডাবল ডিস্ক রাইড করেছি, ব্রেক ভালো মনে হয়েছে ।
ব্যালেন্সঃ আবারো বলি চাকার চিকন বা মোটা হবার কথা। চাকা চিকন হলেই ব্যালেন্স খারাপ আর মোটা হলে ব্যালেন্স ভালো এই ধারণাটাই ভুল । একটি বাইকের ব্যালেন্স ডিপেন্ড করে ওই বাইকের চেসিস এর ডিজাইনের উপর । NS160 এর হলো প্যারামিটার ফ্রেম(চেসিস)। তাই এর ব্যালেন্স নিঃসন্দেহে ভালো ।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে ৪ভিও কম নয়। যারা জিক্সার চালিয়ে অভ্যস্থ উনাদের কাছে ৪ভি এর ব্যালেন্স খুবই সুন্দর লাগবে । ২টার ব্যালেন্স ই দুই রকম কিন্তু অসাধারণ ।
লং/শর্ট ডিস্টেন্স রানিংঃ মনে করুন আপনি কক্সবাজার যাবেন বা সিটিতে জ্যামের মাঝে ১-২ঘন্টা ধরে আছেন ৪ভি তে আপনার ক্লান্তি অনেক দেরিতে আসবে । সেইক্ষেত্রে NS অনেক পিছিয়ে রয়েছে । বাইক বেশ ভারি হবার কারণে আপনাকে অতি তাড়াতাড়ি ক্লান্তিতে বশ করবে । কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এইটা নাও হতে পারে । খুব বেসিক ভাবে বলি, যারা একটু লম্বা আর শক্তিশালি NS ওনাদের জন্য ঠিক আসে । তবে ৪ভি তো আরো হবার কথা কিন্তু যারা পাতলা সাথে হাইট ও কম ওদের জন্য নিঃসন্দেহে ৪ভি।
মাইলেজঃ কত কিলো তে এক লিটার যায় বা কতো লিটারে এক কিলো যায় এই অংক পরের ব্যাপার। পার্সনাল রিভিউ হচ্ছে ৪ভি তেল বেশি খায় NS থেকে। কিন্তু তাই বলে আহামরি বেশি না আপাত দৃষ্টিতে আমার কাছে তাই মনে হলো দেখা যাক পরে ৪ভি ঠিক মতোন টিউনিং করার পর কি হয়।
বিল্ড কোয়ালিটিঃ NS এইদিক থেকে যথেষ্ঠ এগিয়ে আছে। ৪ভি এর বিল্ড কোয়ালিটি খুবই বাজে।
ইঞ্জিন সাউন্ডঃ অনেকে আছে NS কে প্রায় সময় সিএনজি বলেই ডেকে ফেলেন। আমি দ্বিমত পোষণ করতে পারছি না সাউন্ড ফ্রিক মানুষদের জন্য NS না। কারণ এর সাউন্ড জন্মগতই খারাপ তারপরেও অনেকেই আছে যাদের কাছে NS এর সাউন্ড খারাপ লাগে না এর মাঝে আমিও একজন। আবার ৪ভি এর সাউন্ড খুবই সুন্দর ইঞ্জিন সাউন্ডের দিক দিয়ে ৪ভি কে আমি যথেষ্ঠ এগিয়ে রাখবো।
স্ট্যাবিলিটিঃ এইখানে স্ট্যাবিলিটি কথার মিনিংটা বুঝাচ্ছি আমি অন গ্রাউন্ড স্ট্যাবিলিটি। যেমন কোনো গাড়ি আপনার পাশ দিয়ে গেলে যে বাতাসের কাপুনি বা কড়া ব্রেক ধরলে বাইকের এক ধরণের হু-হুতাস মার্কা কোমড় দোলানি অথবা অনেক স্পীডে উঠলে মনে হতে পারে যে গ্রাইন্ড থেকে গাড়ি উঠে যাচ্ছে। এইসব কোনোটাই NS এ নেই তবে ৪ভি এর আছে।
মেইন্টেন্স এর খরচঃ অবশ্যই NS এর বেশি। কারণ যার সামান্য এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করতেই পুরো টাংকি খুলে ফালায় দিয়ে হাফ সার্ভিসিং এর টাকা খরচ করে এয়ার ফিল্টারে বাতাস দেওয়া লাগে সেইটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আসলে এই প্রসেসই বলে যে কার মেইন্টেইনেন্স খরচ বেশি হবে । এইবার নিজের কথা বলি। আমি সবসময়ই আরটিআর হেইটার ছিলাম কিন্তু নতুন মডেলের ৪ভি চালিয়ে আমি আবেগে আপ্লুত। বেশ জোস একটা বাইক তৈরি করছে এই বাজেটে। জানি না ভবিষ্যত ২০-৩০হাজার কিলোমিটার এ এই বাইকের কি হবে। কিন্তু কম বাজেটে বেশি দারুন একটা বাইক। TVS Apache RTR 4V vs Bajaj Pulsar NS160 সম্পর্কে আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছি মাত্র। সবার সাথে নাও মিলতে পারে। তাই আপনি নিজে ব্যবহার করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
লিখেছেনঃ সুজেফ উদ্দিন
আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।